wellreach.shop

ফাতেমাতুয যাহরা রাযি.

লেখক : ড. আয়েশা বিনতে আবদুর রহমান ও সাইয়্যেদ আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ

অনুবাদক : মাওলানা শাহেদ হারুন

প্রকাশক : রাহনুমা প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা : ২১৬, কভার : পেপারব্যাক

 মূল্য : ৩৬০ টাকা।

 

Original price was: 360.00৳ .Current price is: 200.00৳ .

সারসংক্ষেপ:

ইসলামের ইতিহাসে নবি-পরিবারের বিশেষ এক অবস্থান রয়েছে। এর সিলসিলা ধরে নবিজির সাথে ভাগ্যবান মুসলিমদের বংশীয় সম্পর্কের এক ঐশী আত্মীয়তাও যুক্ত! এ অবস্থানে এক ও অদ্বিতীয় ব্যক্তি জান্নাতি নারীদের সরদার হযরত ফাতেমা রাজি.। তিনি ছিলেন নবিজির সবচেয়ে আদরের কন্যাও। ইতিহাস তাকে মা ফাতেমা নামে বরণ করেছে।

তার জীবন ও ইতিহাসের গল্পের সাথে জুড়ে রয়েছে নবি-পরিবারের অসংখ্য গল্প, যেসব গল্প না জানলে রাসুলের পরিবারজীবন পুরোপুরি বুঝে ওঠা কারও জন্যই সম্ভব না। এরও বাইরে রয়েছে ইসলামের প্রাথমিক যুগে হজরত ফাতিমা ও অন্য তিন বোনের পিতৃপ্রেম, খাদিজা রাজি.-এর ছায়ায় সবার বেড়ে ওঠা, তার ইন্তেকালের পর একমাত্র পিতাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচা, প্রতিজনের বিবাহ ও জীবনের গল্প—একইসাথে নবিজির আদরে বেড়ে ওঠার অপার্থিব এক সুখকর জীবনের আখ্যান। তাদের পরিবারের আদর্শ ও পথরেখা ধরেই জগতের সমস্ত দ্বীনি পরিবার গড়ে উঠেছে। এরকম সমস্ত বিষয়কে একমলাটে এনে আরববিশ্বের বিখ্যাত লেখিকা ড. আয়েশা বিনতে আবদুর রহমান ও সাইয়্যেদ আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ লিখেছেন—‘ফাতেমাতুয যাহরা গল্প ও ইতিহাস’…

.

বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে ইতিহাসের নির্যাসকে গল্পের ভেতর এঁকে এঁকে এমন নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, পড়তে গিয়ে মনে হবে—না গল্প পড়ছি, না ইতিহাস; কিন্তু দুটোরই মিশেলে পড়ে যাচ্ছি অভিবন এক নবিজীবনের ভাষ্য। বইয়ের শুরুতেই নাতিদীর্ঘ এক ভূমিকায় তখনকার সময়ে আরবে নারীদের অবস্থান ও মর্যাদার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেন পাঠক পাঠপর্বে বুঝে নিতে পারেন, সবাই কী পরিবেশে বেড়ে উঠেছিল সেকালে। অতঃপর নবিজির সাথে হযরত খাদিজা রাজি.-এর পরিচয়, প্রণয় ও সংসার, মেয়েদের জন্মবৃত্তান্তসহ নবিপরিবারের প্রাত্যহিক হালনাগাদ করেছেন লেখক।

.

প্রথমে রয়েছে হযরত জয়নাব রাজি.-এর জীবনের গল্প। তিনি ছিলেন নবিজির প্রথম কন্যা। সবার আদর ও ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা এই তিলোত্তমা ছিলেন তখনকার সময়ের সবচেয়ে সুন্দরীদেরও একজন। ছোট তিনবোনকে আদর ও শাসন করতে গিয়ে খুব দ্রুতই ম্যাচুরিটিতেও চলে আসা এই মহীয়সীর খালাতো ভাই আবুল আসের সঙ্গে বিয়ে হয়; অতঃপর কিছু দিন পর নবিজির নবুওতপ্রাপ্ত হওয়া, কাফেরদের অত্যাচারে স্বামীর বিরহ—এরকম আরও বিভিন্ন কারণে জয়নাব রাজি.-এর জীবন ইসলামের ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বর্ণাঢ্যময় হয়ে আছে।

বড় মেয়ে হিসেবে নবিজির প্রথমদিককার নবুওত-জীবন অনেক কাছ থেকে দেখে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। ফলে তিনি ইসলামের প্রতি ছিলেন অন্তঃ ও মর্মপ্রাণ এক নারী এবং অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনারও সাক্ষী!

.

অতঃপর এসেছে হযরত রুকাইয়া রাজি.-এর জীবনের গল্প ও ইতিহাস। যে ইতিহাস একইসাথে আনন্দ ও বেদনার। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই নবিজির নবুওতপ্রাপ্তির খবর শুনে আবু লাহাবের ছেলের দেওয়া তালাক, হযরত উসমান রাজি.-এর সাথে তার বিয়ে, আবিসিনিয়ায় হিজরত, অতঃপর আবারও একদিন মক্কায় নীড়ে ফেরা, প্রিয় বাবার সাথে সাক্ষাৎ, মাকে শেষবারের মতো দেখতে না পারা, পরিবারের সাথে ইয়াসরিবের দিকে হিজরত, প্রিয়তম সন্তানের মৃত্যু—এত সব ঘটনার ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠা ধৈর্যশীল রুকাইয়া রাজি. নবিজি বদরযুদ্ধে থাকাকালীন অবস্থায় প্রিয়তম স্বামী হযরত উসমান রাজি.-এর নিবিঢ় সাহচর্যের ভেতর ইন্তেকাল করেন। ইতিহাস তাকে নাম দিয়েছে দুই হিজরতের নবিকন্যা নামে।

.

এরপর হজরত উম্মে কুলসুম রাজি.-এর জীবনের গল্প ও ইতিহাস নিয়ে বর্ণিত অন্যরকম এক আখ্যান। নবিজির নবুওতপ্রাপ্তির পর দু-বোনের একসাথে তালাক হয়ে যাওয়া, নিঃসঙ্গতা, প্রিয় বাবার নিবিড় সান্নিধ্য, অতঃপর হিজরত-পরবর্তী সময়ে বড়বোন রুকাইয়ার মৃত্যু এবং হজরত উসমানের সাথে তার বিবাহ, বোনের সংসারকে আগলে রাখাসহ  নানা কারণেই তার জীবনও ঘটনাবহুল। পরন্তু মুহাজিরদের জীবনের অসংখ্য ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে তার জীবনালেখ্যের অনেক মর্মস্পর্শী গল্প!

.

সর্বশেষে বৃহৎ কলেবরে এসেছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুণ্যবতী নারীদের একজন হজরত ফাতেমা রাজি.-এর জীবনের গল্প ও ইতিহাস। বক্ষ্যমান গ্রন্থটিও তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। হজরত ফাতেমার জন্ম, নবিজির নবুওতপ্রাপ্ত হওয়া, ছোট কন্যা হিসেবে বাবার আদর, মা হারানোর ব্যথা, মদিনায় হিজরত, হজরত আলির সাথে সংসার, নবিজির পাশাপাশি ঘরে প্রতিবেশী হয়ে থাকা, হজরত হাসান ও হুসাইন রাজি.-এর জন্ম ও বেড়ে উঠা—এই সবগুলো গল্পে মিশে আছে নবিজি ও সেই সময়কার ইতিহাস ও জীবনপ্রবাহ।

ফাতিমা রাজি.-এর জীবনের ইতিহাস ইসলামেরও ইতিহাস, নবিজির জীবনেরও ইতিহাস। যে ইতিহাস পৃথিবীর প্রতিজন মুমিনের জীবনের সঙ্গে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় মিশে আছে।

.

ছোট কলেবরের এই গ্রন্থে প্রিয় নবির চার কন্যার জীবনের সবচেয়ে মৌলিক অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে, যেন সবার জীবনের একটা পষ্ট চলচ্চিত্র ভেসে ওঠে চোখের সামনে। তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবিজির সাথে কাটানো শৈশব ও কৈশোরের দিনকাল, বিবাহ, হিজরত-পরবর্তী সময়ে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রে কাটানো দিনকালসহ সব কিছু প্রাত্যহিক ডায়েরির মতো উঠে এসেছে বিশুদ্ধ রেফারেন্স ও ঝরঝরে গদ্যের ধারায়। পাঠকমাত্রই মোহিত হবেন নবিকন্যাদের জীবনের এসব গল্পে। চার আশ্চর্যময়ী তিলোত্তমাদের জীবনের ভাষ্যে জানা ও শেখার মতো এমন অজস্র বিষয় রয়েছে, যা না জানলে জীবনের রুক্ষ পথচলা কখনো কখনো স্থবির হয়ে দাঁড়াবে কিংবা থেমে যাবে।

.

নবিকন্যাদের জীবন ও ইতিহাসের গল্পে পাঠককে স্বাগতম। এই চার মহীয়সীর ভালোবাসা ও ত্যাগের গল্প আমাদের জীবন ও মননকে মহিমান্বিত করে তুলুক।

হযরত খাদিজা রাজি. কিশোরী অবস্থায় ছিলেন বাড়ির অন্যতম শোভা। বাবা-মায়ের আদরের দুলালি। এভাবেই এগিয়ে চলা, অতঃপর প্রথম বিবাহ! স্বামী আতিক বিন আবিদ। পিত্রালয় ছেড়ে চলে গেলেন স্বামীগৃহে। অপরিচিত ঘর, অপরিচিত মানুষ! নিজের গুণে আপন করে নিলেন স্বামী ও পরিবারকে। স্বামী আতিক বিন আবিদ বেশ সন্তুষ্ট স্ত্রীর প্রতি। যা আশা করেছেন তা তো পেয়েছেনই, যা আশা করেননি, তাও পেয়েছেন। অল্প দিনেই এ দম্পতি হয়ে উঠলেন মক্কার গর্ব। সকলের অনুসরণীয়। বছর ঘুরতেই খাদিজার কোল আলো করে জম্ম নিল এক মেয়ে। বন্ধন আরও দৃঢ় হলো। কিন্তু আতিক-খাদিজার সুখ স্থায়ী হলো না। আতিক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। স্বামীর আকস্মিক বিদায়ে হতাশায় মুষড়ে পড়েন খাদিজা। আতিকের রেখে যাওয়া মেয়েকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে চান বাকি জীবন।

পিতা খোয়াইলিদ বহু কষ্টে রাজি করান দ্বিতীয় বিবাহে! আবারও নতুন জীবনে খাদিজা। নাব্বাশ ইবনে জুররাহ আত-তামিমির ঘরে। এবারের স্বামীও মুগ্ধ তার প্রতি। এগিয়ে চলল তাদের দাম্পত্যজীবন। প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে যথাক্রমে জম্ম নিল দুই ছেলে। সুখে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল তাদের সংসার। এত সুখ দেখে খাদিজার দুশ্চিন্তা হয়। ভাবেন—আমাদের এ সুখ স্থায়ী হবে তো! নতুন কোনো বিপদ আসবে না তো!

অবশেষে খাদিজার আশঙ্কা সত্যি হয়। নাব্বাশ চলে যান আখিরাতের অনন্ত সফরে। খাদিজা আবারও একা। বিষণ্ন মন। দিশেহারা ভাব। এ যেন ঝড়ের পর আবার ঝড়। শোকের উপর আরও শোক! ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। নজর দেন স্বামীর ব্যবসায়। এগিয়ে চলছে ব্যবসা। নিপুণ সুদক্ষ পরিচালনায় সম্পদ বাড়তেই থাকে। অল্প দিনে হয়ে ওঠেন মক্কার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী। কঠিন সিদ্ধান্ত নেন, আর বিবাহ করবেন না। বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে। কিন্তু স্রষ্টার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম!

একদিন বিস্ময়কর এক স্বপ্ন দেখেন ঘুমের বিছানায়। যাকে বলা যায় ‘আশ্চর্য কুহেলিকা এক’। স্বপ্নের রাজকুমার যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে! কে এই পবিত্রতম হৃদয়ের দীপ্তিমান পুরুষ! কাকে স্বপ্ন দেখে মোড় ঘুরে যায় তার জীবনের? সেই কঠিনতম সিদ্ধান্তটির? তিনি আল আমিন! যিনি ভবিষ্যতে হবেন তার স্বামী! হবেন বিশ্ব জাহানের নবি!

কোনো একদিন মুহাম্মদ খাদিজার ব্যবসার সফর নিয়ে রওনা হন সিরিয়ায়। মুহাম্মদের রুচি, বুদ্ধি দেখে খাদিজা মুগ্ধ। এবং তার প্রতীতি হয়, সে-ই রাতে দেখা তার স্বপ্নপুরুষ!  প্রিয় বান্ধবী নাফিসাকে পাঠান মুহাম্মদের নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে। অতঃপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ!

তাদের সংসার শুরু হওয়ার পর পৃথিবীতে রচিত হয়েছে ঐশ্বরিক ভালোবাসার এক মহাকাব্য! অনন্তকাল ধরে সংসার, ভালোবাসা ও দাম্পত্য জীবনের জন্য যা হয়ে রয়েছে শাশ্বত আদর্শ। প্রতিজন মুমিন ও মুমিনার জন্য এই প্রেম ও ভালোবাসা আদর্শ; এ প্রেম সকলের জীবনকেই করতে পারে মহিয়ান-গরিয়ান!

গ্রন্থটিকে সিরাত কিংবা সিরাতে আঁকা গল্পও বলা যায়। এতে স্বল্প কলেবরের ভিতরই অসাধারণ নিপুণতায় নিয়ে আসা হয়েছে খাদিজার প্রাথমিক জীবন থেকে শুরু করে নবিজির সাথে সংসার ও জীবনের অন্তিম সময় পর্যন্ত। অনুবাদকের ভাষায়—‘তাকে নিয়ে এই কিতাবটি লিখতে বসে বারবার আমার মনে যে কথাটি ছায়া বিস্তার করেছে, তা হলো এই—তার সংগ্রাম ও সোনালি এবং নবুওত-বিধৌত জীবনের একটুখানি পরশ যদি লাগে কোনো-নারী জীবনে, তাহলে আমার বিশ্বাস, সে নারীও হয়ে যাবেন ইতিহাসের মহীয়সী।’

প্রিয়তম মুহাম্মদের সাথে নবুওত-পূর্ববর্তী দাম্পত্য জীবনে তার দীর্ঘ পনেরটি বছর কেমন ছিল, এ আগ্রহ, এ কৌতূহল পৃথিবীর সকলের। ভালোবাসা, দায়িত্বশীলতা, অভিমান ও সংসারের নানান রোমাঞ্চকর উত্তেজনায় ভরপুর এ এক মজার ও রোমাঞ্চকর ইতিহাসযাত্রা। পড়তে পড়তে পাঠক কখনো বিহ্বল হয়ে পড়বেন; গল্পের শেষে এসে অশ্রু-চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হবে, কেন এখানেই শেষ হয়ে যাবে সব!

ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠতম নারী ও মহীয়সীর জীবনের গল্পগুলো আমাদের জীবনেরও অবলম্বন যেন হয় এবং  চমৎকার এই বইটি যেন হয় আমাদের ঘরের শোভা ও রোজকার নিত্যপাঠের অংশ।