wellreach.shop
Skip to contentলেখক : আবদুস সালাম আল আশরী, মুহাম্মাদ আবদুল গণী হাসান
অনুবাদক : ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভি
প্রকাশক : রাহনুমা প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২২২, কভার : পেপারব্যাক
মুদ্রিত মূল্য : 700 টাকা।
700.00৳ Original price was: 700.00৳ .400.00৳ Current price is: 400.00৳ .
পৃথিবীর বুকে এখন পর্যন্ত যে কজনা শ্রেষ্ঠ নারী ও মহীয়সী জন্ম নিয়েছেন, তাদের মধ্যে হযরত খাদিজা রাজি. অন্যতম প্রধান। একদিকে পৃথিবীর প্রথম মুসলমান, অন্যদিকে জগতের সবচেয়ে দামি ও পবিত্রতম মানুষটির হৃদয়ের প্রতিমুহূর্তের বিহ্বলতা; তাঁর ভালোবাসা, আশ্রয় ও প্রশ্রয়ের ঠিকানা। নবিজির হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে অনন্ত ঘুরতে থাকা এই মহীয়সীকে নিয়ে আমাদের কত কিছুই এখনো অজানা! সেসব শূন্যতা ও দুর্বলতা পূরণেই ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভির অনুবাদ ও চমৎকার বাংলা গদ্যে হাজির হয়েছে গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা রাজি. গ্রন্থটি।
.
হযরত খাদিজা রাজি. কিশোরী অবস্থায় ছিলেন বাড়ির অন্যতম শোভা। বাবা-মায়ের আদরের দুলালি। এভাবেই এগিয়ে চলা, অতঃপর প্রথম বিবাহ! স্বামী আতিক বিন আবিদ। পিত্রালয় ছেড়ে চলে গেলেন স্বামীগৃহে। অপরিচিত ঘর, অপরিচিত মানুষ! নিজের গুণে আপন করে নিলেন স্বামী ও পরিবারকে। স্বামী আতিক বিন আবিদ বেশ সন্তুষ্ট স্ত্রীর প্রতি। যা আশা করেছেন তা তো পেয়েছেনই, যা আশা করেননি, তাও পেয়েছেন। অল্প দিনেই এ দম্পতি হয়ে উঠলেন মক্কার গর্ব। সকলের অনুসরণীয়। বছর ঘুরতেই খাদিজার কোল আলো করে জম্ম নিল এক মেয়ে। বন্ধন আরও দৃঢ় হলো। কিন্তু আতিক-খাদিজার সুখ স্থায়ী হলো না। আতিক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। স্বামীর আকস্মিক বিদায়ে হতাশায় মুষড়ে পড়েন খাদিজা। আতিকের রেখে যাওয়া মেয়েকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে চান বাকি জীবন।
পিতা খোয়াইলিদ বহু কষ্টে রাজি করান দ্বিতীয় বিবাহে! আবারও নতুন জীবনে খাদিজা। নাব্বাশ ইবনে জুররাহ আত-তামিমির ঘরে। এবারের স্বামীও মুগ্ধ তার প্রতি। এগিয়ে চলল তাদের দাম্পত্যজীবন। প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে যথাক্রমে জম্ম নিল দুই ছেলে। সুখে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল তাদের সংসার। এত সুখ দেখে খাদিজার দুশ্চিন্তা হয়। ভাবেন—আমাদের এ সুখ স্থায়ী হবে তো! নতুন কোনো বিপদ আসবে না তো!
অবশেষে খাদিজার আশঙ্কা সত্যি হয়। নাব্বাশ চলে যান আখিরাতের অনন্ত সফরে। খাদিজা আবারও একা। বিষণ্ন মন। দিশেহারা ভাব। এ যেন ঝড়ের পর আবার ঝড়। শোকের উপর আরও শোক! ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। নজর দেন স্বামীর ব্যবসায়। এগিয়ে চলছে ব্যবসা। নিপুণ সুদক্ষ পরিচালনায় সম্পদ বাড়তেই থাকে। অল্প দিনে হয়ে ওঠেন মক্কার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী। কঠিন সিদ্ধান্ত নেন, আর বিবাহ করবেন না। বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে। কিন্তু স্রষ্টার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম!
.
একদিন বিস্ময়কর এক স্বপ্ন দেখেন ঘুমের বিছানায়। যাকে বলা যায় ‘আশ্চর্য কুহেলিকা এক’। স্বপ্নের রাজকুমার যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে! কে এই পবিত্রতম হৃদয়ের দীপ্তিমান পুরুষ! কাকে স্বপ্ন দেখে মোড় ঘুরে যায় তার জীবনের? সেই কঠিনতম সিদ্ধান্তটির? তিনি আল আমিন! যিনি ভবিষ্যতে হবেন তার স্বামী! হবেন বিশ্ব জাহানের নবি!
.
কোনো একদিন মুহাম্মদ খাদিজার ব্যবসার সফর নিয়ে রওনা হন সিরিয়ায়। মুহাম্মদের রুচি, বুদ্ধি দেখে খাদিজা মুগ্ধ। এবং তার প্রতীতি হয়, সে-ই রাতে দেখা তার স্বপ্নপুরুষ! প্রিয় বান্ধবী নাফিসাকে পাঠান মুহাম্মদের নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে। অতঃপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ!
.
তাদের সংসার শুরু হওয়ার পর পৃথিবীতে রচিত হয়েছে ঐশ্বরিক ভালোবাসার এক মহাকাব্য! অনন্তকাল ধরে সংসার, ভালোবাসা ও দাম্পত্য জীবনের জন্য যা হয়ে রয়েছে শাশ্বত আদর্শ। প্রতিজন মুমিন ও মুমিনার জন্য এই প্রেম ও ভালোবাসা আদর্শ; এ প্রেম সকলের জীবনকেই করতে পারে মহিয়ান-গরিয়ান!
.
গ্রন্থটিকে সিরাত কিংবা সিরাতে আঁকা গল্পও বলা যায়। এতে স্বল্প কলেবরের ভিতরই অসাধারণ নিপুণতায় নিয়ে আসা হয়েছে খাদিজার প্রাথমিক জীবন থেকে শুরু করে নবিজির সাথে সংসার ও জীবনের অন্তিম সময় পর্যন্ত। অনুবাদকের ভাষায়—‘তাকে নিয়ে এই কিতাবটি লিখতে বসে বারবার আমার মনে যে কথাটি ছায়া বিস্তার করেছে, তা হলো এই—তার সংগ্রাম ও সোনালি এবং নবুওত-বিধৌত জীবনের একটুখানি পরশ যদি লাগে কোনো-নারী জীবনে, তাহলে আমার বিশ্বাস, সে নারীও হয়ে যাবেন ইতিহাসের মহীয়সী।’
.
প্রিয়তম মুহাম্মদের সাথে নবুওত-পূর্ববর্তী দাম্পত্য জীবনে তার দীর্ঘ পনেরটি বছর কেমন ছিল, এ আগ্রহ, এ কৌতূহল পৃথিবীর সকলের। ভালোবাসা, দায়িত্বশীলতা, অভিমান ও সংসারের নানান রোমাঞ্চকর উত্তেজনায় ভরপুর এ এক মজার ও রোমাঞ্চকর ইতিহাসযাত্রা। পড়তে পড়তে পাঠক কখনো বিহ্বল হয়ে পড়বেন; গল্পের শেষে এসে অশ্রু-চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হবে, কেন এখানেই শেষ হয়ে যাবে সব!
.
ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠতম নারী ও মহীয়সীর জীবনের গল্পগুলো আমাদের জীবনেরও অবলম্বন যেন হয় এবং চমৎকার এই বইটি যেন হয় আমাদের ঘরের শোভা ও রোজকার নিত্যপাঠের অংশ।






PDF লোড হচ্ছে...